গত তিন বছরের মধ্যে এই দ্বিতীয়বারের মতো ঘটতে যাচ্ছে ব্যাপারটা।
চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে দুই মাদ্রিদের লড়াই। রিয়াল মাদ্রিদ ও
অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ। বায়ার্ন মিউনিখকে পেছনে ফেলে আগের রাতেই চ্যাম্পিয়নস
লিগের ফাইনাল নিশ্চিত করেছিল অ্যাটলেটিকো। কাল দ্বিতীয় সেমির দ্বিতীয়
লেগে ম্যানচেস্টার সিটিকে ১-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে অপর
রিয়াল মাদ্রিদও।ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে প্রথম লেগের ম্যাচটি গোলশূন্য ড্র হয়েছিল। দ্বিতীয় লেগে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর উপস্থিতি যেন ভোজবাজির মতো পাল্টে দিল সবকিছুই। পাল্টে গেল রিয়াল। তবে কাল গোলের দেখা পাননি পর্তুগিজ তারকা। একাধিকবার গোলের সুযোগ তৈরি করেছিলেন বটে, কিন্তু দলের জয়ে ভূমিকা এক আত্মঘাতী গোলেরই। গ্যারেথ বেলের একটি ক্রস ফেরাতে গিয়ে ম্যানচেস্টার সিটির মিডফিল্ডার ফার্নান্দোর কী যে হলো! তাঁর গায়ে লেগে বল চলে গেল নিজেদেরই জালে।
ম্যাচের ২০ মিনিটে ওই আত্মঘাতী গোলই শেষ অবধি জয়-পরাজয়ের নিয়ামক। এ নিয়ে ১৪তম বারের মতো চ্যাম্পিয়ন লিগের ফাইনালে নাম লেখাল রিয়াল মাদ্রিদ।
ম্যাচটা যেন দুর্ভাগ্য দিয়েই শুরু করেছিল ম্যানচেস্টার সিটি। শুরুতেই ভিনসেন্ট কম্পানির চোট নিয়ে বেরিয়ে যাওয়া দলটিকে বড় ধরনের ধাক্কাই দিয়েছিল। এরপরে ফার্নান্দোর আত্মঘাতী গোল। চ্যাম্পিয়নস লিগের টানা ছয় ম্যাচ অপরাজিত থাকার আত্মবিশ্বাস নিয়ে যে দল মাঠে নেমেছিল দুই ধাক্কায় সেই আত্মবিশ্বাস মুহূর্তেই হাওয়া। গোলে খেয়ে যাওয়ার পর ম্যাচে ফেরার শক্তিটুকু প্রয়োগের ক্ষমতাও যেন হারিয়ে ফেলেছিল সিটি।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে বেলের চমৎকার ক্রস থেকে গোল করতে পারেননি রোনালদো। এই মিসটি তাঁকে যথেষ্টই পোড়াবে। ওটামেন্ডির ভুলে আবারও গোল খেতে বসেছিল সিটি। কিন্তু সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি রিয়াল। ৫৫ মিনিটে কারভাহালের পাস থেকে আবারও বল পেয়ে রোনালদোর মিস। দারুণ খেলেছেন বেল। ফল-নির্ধারক গোলটি তো বটেই, খেলায় রিয়ালের বেশ কয়েকটি সুযোগের উৎসমূল তিনিই। ম্যাচের একেবারে মেষ মুহূর্তে সার্জিও আগুয়েরোর একটি শট ক্রসবার ছুঁয়ে বাইরে চলে চলে গেলে ‘মাদ্রিদময়’ ফাইনাল নিশ্চিতই হয়ে যায়।
ম্যাচ শেষে দারুণ উচ্ছ্বসিত সার্জিও রামোস বলেছেন, ‘ফাইনালটা কীভাবে জিততে হয়, সেটা রিয়াল মাদ্রিদ খুব ভালো করেই জানে। এবারও আমরা মাঠে নেমে সেটাই করতে চাইব।’ অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে ২০১৩-১৪ চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে তাঁর সেই যোগ করা সময়ে সমতা ফেরানো গোলটির কথা ভেবেই হয়তো তিনি এ কথা বলেছেন।
রিয়াল কোচ জিনেদিন জিদান ২০০২ সালে রিয়ালের খেলোয়াড় হিসেবে জিতেছিলেন চ্যাম্পিয়নস লিগ এবার কোচ হিসেবে ইউরোপ-সেরা সাফল্যের অংশীদার হওয়ার হাতছানি তাঁর সামনে। তাঁর মতে সেমিফাইনালে দল তাঁর মন মতো খেলতে না পারলেও ফাইনালে ঠিকই তা পুষিয়ে নেবে, ‘সেমিফাইনালে একটু ভুগতেই হয়। কিন্তু ফাইনালে ঠিকই দল ভালো খেলবে।’
ম্যানচেস্টার সিটির কোচ ম্যানুয়েল পেলিগ্রিনি সেমির হারে দলের দুর্ভাগ্যকেই দায়ী করছেন, ‘আমরা ভালোই খেলেছি। কিন্তু কী একটা গোলে হারলাম! আমরা যেভাবে খেলেছি, তাতে ফাইনালেও যেতে পারতাম। মাঠে কিন্তু আমরা রিয়ালকে মোটেও গোলের সুযোগ তৈরি করতে দিইনি।’
No comments:
Post a Comment